× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রজন্ম জেড-ই গণতন্ত্র রক্ষা করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৫ ০৫:২১ পিএম

চিত্র - কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত

চিত্র - কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আপনারা এখন যৌবনে পা রেখেছেন, আপনাদের হাতেই এখন প্রকৃত গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। কিন্তু সত্যিকারের প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে এবং আমাদের দেশের সরকারি সবো দানকারী প্রতষ্ঠিানগুলরি গভীরে প্রোথিত সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে।  আমাদের কেবলমাত্র বভিন্নি সময়ে পরর্বিততি বভিন্নি সরকারের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করা উচিত হবে না। পরিবর্তে, আমাদের উচিত হবে সমাজের মূল ভিত্তি - জনগণের প্রতিষ্ঠানগুলিকে গণতান্ত্রিক করা।

জনগণের প্রতিষ্ঠানগুলো - হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার, পরিবহন কেন্দ্র (বাস স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর, নদী ও সমুদ্র বন্দর, বিভিন্ন টার্মিনালসমূহ ইত্যাদি), ব্যাংক, বীমা, থানা, আদালত, এবং অন্যান্য সমজাতীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ যা জনগণের সম্পদ সেগুলো অবশ্যই জনগণের নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকা উচিত। অথচ, এই স্থানগুলোতইে প্রায়শ স্বচ্ছতার অভাব দখো যায়। সেখানে অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং বভিন্নি ধরনরে সামাজকি অন্যায়ের মতো সমস্যাগুলি প্রকট। আমাদের সময় এসেছে এটি পরিবর্তন করার।

কল্পনা করুন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সকল ধরনরে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সর্বদা জনগণের নজরদারিতে থাকবে । এটি অর্জন করা যেতে পারে প্রতিটি সরকারি সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে এবং এর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে - প্রবেশদ্বার, নির্গমনপথ, সেবা কাউন্টার, শ্রেণিকক্ষ, হাসপাতালের কক্ষ, এমনকি পুলিশ স্টেশনেও। এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ আমাদের দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখতে পারবেন। যা জনগণের সম্পত্তিসমূহ ও সরকার প্রদত্ত সেবাগুলোর সরাসরি নজরদারি নিশ্চিত করবে। এছাড়াও, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থানসমূহ যেমন ভোট কেন্দ্র, তথ্য কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ওয়ারহাউস বা স্টোরেজ স্থান, যানজটময় রাস্তাসমূহ ইত্যাদি সবকিছুই জনগণের নজরদারির আওতায় আনা উচিত।

এই ব্যবস্থায়, শিক্ষার ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যসেবায়, বা আইন প্রয়োগে - প্রতিটি নাগরিক এবং সরকারি কর্মীদের মধ্যে সংঘটিত প্রতিটি ঘটনা বা লেনদেন নিখুঁতভাবে নজরদারির আওতায় থাকবে, রেকর্ড করা হবে এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। এই ঘটনাগুলি সংঘটনের সময়, তারিখ, সেবা গ্রহণকারী এবং সেবা প্রদানকারীর জাতীয় আইডি নম্বর, ফোন নম্বর, ইমেল ঠিকানা এবং ঘটনার বিবরণ (যেমন নথিপত্র বিনিময়, অর্থ লেনদেন, ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, অনুমোদন, সেবাপ্রদান, অর্থপ্রদান ইত্যাদি) এবং বিস্তারিত আরও সবকিছু রেকর্ড করা হবে। যা তাৎক্ষণিক এবং ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যা একটি জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এবং, এতে জনগনের মধ্যে নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের সৃষ্টি করবে।

উদাহরণস্বরূপ, সরকারি স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ রিয়েল-টাইমে দেখতে পারবেন। যা শিক্ষার্থীদের সুস্থতা এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করবে। একইভাবে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে, রোগীর পরিবার, চিকিৎসক এবং হাসপাতাল প্রশাসকরা যে কোন জায়গা থেকে রিয়েল-টাইমে রোগীদের অবস্থান এবং চিকিৎসার ওপর নজর রাখতে পারবেন। অনুরূপভাবে, পুলিশ স্টেশনে নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে আটককৃতদের অধিকার সুরক্ষিত করবে, যেখানে আটককৃতদের আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের সুস্থতার দিকে নজর রাখতে পারবেন।

এছাড়াও, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং/বা উপদেষ্টা কমিটিগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সকল ধরনের জাতীয় স্তরের সম্মেলন, সভা এবং বৈঠকগুলো সর্বজনীন ও উন্মুক্ত হওয়া উচিত। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষে, এই ঘটনাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত। এই ধরনের পদ্ধতি সরাসরি সম্প্রচারিত সংসদ অধিবেশনের সাথে তুলনীয়, যা সরকারী কার্যক্রমে উন্মুক্ততা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ৩৩ থেকে ৪৪ লক্ষ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় নিবন্ধিত আছে, যারা (প্রজন্ম জেড), এই নজরদারি বা তদারকি ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতে পারে। ডিজিটাল যুগের সন্তান হিসেবে, আপনাদের কাছে এই ধরনের নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং তদারকি করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে। আপনারাই এই নিরীক্ষণ ব্যবস্থার তদারকি এবং তত্ত্বাবধানের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত।

আপনারা ডিজিটালভাবে সংযুক্ত একটি অনলাইন কমিউনিটি বা সম্প্রদায় গঠন করতে পারেন। যা এই নজরদারি ব্যবস্থার তদারকি করবে। একটি র‌্যান্ডম, স্বয়ংক্রিয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, এই কমিউনিটির একেকজন সদস্য স্বল্প সময়ের জন্য তার বাড়ি বা কর্মস্থলের আশেপাশের কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সরঞ্জাম বা ক্যামেরা ফিড তদারকির (নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব) জন্য মনোনীত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন সদস্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন দুই ঘণ্টার জন্য স্থানীয় কোন স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ক্যামেরা ফিড তদারকি করতে পারে, অন্যদিকে আরেকজন সদস্য হয়ত একটি হাসপাতালের কক্ষের ফিড পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে পারে। সকল সদস্যদের মাঝে সমভাবে বন্টিত এই তদারকি পদ্ধতি নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। একদিকে এটি যেমন কোনও একক ব্যক্তির ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো রোধ করবে, অন্যদিকে তা গুটিকয়েকজনের হাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া এড়াবে।

এই ধরনের একটি র‌্যান্ডম প্রক্রিয়া। যা বিশেষভাবে ডিজাইন করা অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, তা বিভিন্ন সরকারি সেবা ও ব্যবস্থার উপর জনগনের নির্ভরযোগ্যতা এবং এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে তুলবে, এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্যদের তদারকি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা নিশ্চিত করবে।

তবে, এই ধরনের একটি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হল সেবাপ্রার্থীর গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা করা। এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা। ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা আইন এবং নৈতিক নীতিমালা তৈরি ও তার সঠিক প্রয়োগ প্রয়োজন। এছাড়াও, হ্যাকিং এবং তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘন রোধে কঠোর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

জনগণের বিশ্বাস অর্জনের জন্য, নাগরিকদের এই প্রকল্পের ডিজাইন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা জরুরি। স্বচ্ছ পরামর্শ এবং খোলামেলা আলোচনা যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে এবং ঐক্যমত্য তৈরি করতে পারে। নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যেতে পারে এবং উন্নয়নের জন্য ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, এই উদ্যোগটি সফল করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ব্যবহারকারী-বান্ধব তদারকি প্ল্যাটফর্মের (অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারের এবং হার্ডওয়্যারের) উন্নয়ন এবং কার্যকরভাবে ব্যবস্থাটি পরিচালনা করার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।

এই ভিশন শুধুমাত্র বিদ্যমান কাঠামোগুলোকে সংস্কার করার বিষয় নয়; এটি নাগরিকদের তাদের প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার করার এবং তাদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসাধারণের জন্য গঠিত প্রকৃত তদারকি ব্যবস্থা আমাদের গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর মধ্যে একীভূত বা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এবং একে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন স্বাধীনতার যুগ শুরু করতে পারি।

প্রজন্ম জেড, ভবিষ্যত এখন আপনাদের হাতে। আপনাদের রয়েছে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, এবং দেশপ্রেম, যা বাংলাদেশকে এই নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে জনগণের সেবা করবে। যেখানে গণতন্ত্র কেবল একটি শব্দ নয়, বরং সবার জন্য একটি বাস্তবতা।

Writer (লেখক):

রাশেদুল হক রঞ্জন
 

Phone: +88-01918180309 (WhatsApp) 

LinkedIn: https://www.linkedin.com/in/rashedul-haque-ronjon

Email: rashedul.haque.ronjon@outlook.com
 

  • শেয়ার করুন-
 পরীক্ষার খাতা অন্যের মাধ্যমে মূল্যায়ন করালে পরীক্ষকের জেল ও জরিমানা

পরীক্ষার খাতা অন্যের মাধ্যমে মূল্যায়ন করালে পরীক্ষকের জেল ও জরিমানা

 মেট গালায় তারকাদের মোবাইল-সেলফি নিষিদ্ধ, থাকছে আরও কঠোর নিয়ম

মেট গালায় তারকাদের মোবাইল-সেলফি নিষিদ্ধ, থাকছে আরও কঠোর নিয়ম

 সীমান্ত সুরক্ষায় মনোযোগ দিন, দাঙ্গায় নয়: মোদিকে মমতা

সীমান্ত সুরক্ষায় মনোযোগ দিন, দাঙ্গায় নয়: মোদিকে মমতা

সংশ্লিষ্ট

প্রজন্ম জেড-ই গণতন্ত্র রক্ষা করবে

প্রজন্ম জেড-ই গণতন্ত্র রক্ষা করবে

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের এক অনন্য পরিচয়

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের এক অনন্য পরিচয়

রুদ্ধ হতে পারে রাজনীতির পথ

রুদ্ধ হতে পারে রাজনীতির পথ

ধর্ষণের শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড ও অঙ্গ কর্তন!

ধর্ষণের শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড ও অঙ্গ কর্তন!