-->

মেসির সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরুর গল্প শোনালেন আগুয়েরো

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরুর গল্প শোনালেন আগুয়েরো

প্রায় দেড় যুগ এক সঙ্গে জাতীয় দলে খেলার সৌজন্যে দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সখ্য চলমান আজও। লিওনেল মেসির সঙ্গে সের্হিও আগুয়েরোর এই উষ্ণ সম্পর্ক শুরুর গল্প কিছুটা অন্যরকম। ফিফাকে তা শুনিয়েছেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই স্ট্রাইকার।

 

২০০৫ সালে স্রেফ ১৬ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ক্যাম্পে ডাক পান আগুয়েরো ও মেসি। কিন্তু দুজনের মধ্যে তখনো কোনো পরিচয় ছিল না। ওই ক্যাম্পেই প্রথমবার কথা হয় তাদের।

 

নিজ দেশে তখন তারকাখ্যাতি পেতে শুরু করেছেন আগুয়েরো। মেসি বেড়ে উঠছিলেন বার্সেলোনার একাডেমিতে। তার কথা শুনেছিলেন আগুয়েরো, কিন্তু নাম পুরোপুরি জানতেন না। তার কাছে মেসির পরিচয় ছিল, বার্সেলোনার সেই ছেলেটি। সে কারণেই প্রথম পরিচয়ে যে হাস্যরসের জন্ম নেয় ফিফা প্লাসকে সে কথা জানান আগুয়েরো।

 

আমার তখনো ১৭ বছর হয়নি। কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ডাকা হয় আমাদের। আমরা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কমপ্লেক্সে ছিলাম। (এসেকিয়েল) গারায়, (মাউরো) ফরমিকা ও আরেকটি ছেলের সঙ্গে একটি টেবিলে বসা ছিলাম আমি। সে আমার পাশে বসে। আমি তার দিকে তাকাই। কিন্তু জানতাম না, সে কে!

 

ওরা ফুটবল বুট সম্পর্কে আলোচনা করছিল। গারায় বলছিল যে, ওগুলো কত ভালো! তখন ওই ছেলেটি (মেসি) বলে, তারা (বার্সেলোনা) এগুলো আমাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে দিয়েছে। আমি ভাবছিলাম, এই ছেলেটা কোথা থেকে এসেছে?

 

নিজের কৌত‚হল মেটাতে মেসির কাছে গিয়ে নাম জিজ্ঞেস করেন আগুয়েরো। কিন্তু উত্তর শুনেও বুঝতে পারেননি, এই লিও মেসিই যে বার্সেলোনার আলোচিত সেই ছেলেটি।

 

এটি ঘিরে আমার ভেতরে খুঁতখুঁত করছিল। কিন্তু আমার এটি একবারও মনে হয়নি যে, এই ছেলেটিই বার্সেলোনা থেকে এসেছে। আমার ভেতর কৌত‚হল ছিল এবং নিজেকে আটকাতে পারিনি।

 

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার নাম কী? উত্তর দিল, লিও। আবার জিজ্ঞেস করলাম, তোমার শেষ নাম কী? সে বলল, মেসি। আমার কোনো ধারণাই ছিল না সে কে। তাই আবার তার শেষ নাম জিজ্ঞেস করলাম, যদি ভুল শুনে থাকি! সে আবারো বলল, মেসি। কিন্তু এটি আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি।

 

এরপর গারায় ও ফরমিকা জোরে হাসতে শুরু করল। মেসিকে দেখিয়ে আমার নির্বুদ্ধিতায় মজা নিতে শুরু করল, তুমি জানো না, ও কে? তখন আমার মাথায় এলো! বার্সেলোনার সেই ছেলেটিই এই মেসি! তখন মেসিসহ আমরা সবাই হাসতে শুরু করলাম। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার এটি নিয়ে হেসেছি আমরা।

 

প্রথম দিন চিনতে না পারলেও পরবর্তীতে মেসিকে সবচেয়ে কাছ থেকে চেনা গুটিকতক মানুষদের একজন হন আগুয়েরো। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে রুমমেট ছিলেন দুজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় তাদের হাস্যোজ্জ্বল ছবি।

 

ভোরের আকাশ/নি 

মন্তব্য

Beta version