-->

আজই নকআউট পর্বে যেতে চায় ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
আজই নকআউট পর্বে যেতে চায় ফ্রান্স

দোহার ৯৭৪ স্টেডিয়ামে আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ‘ডি’ গ্রুপের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। লেস বøুজরা প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের উড়ন্ত সূচনা করেছে।

 

এদিকে কাসপার হুলমান্ডের ডেনমার্ক দল তিউনিশিয়ান সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছেড়েছে। প্রথম ম্যাচে ২ গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরিকে স্পর্শ করেছেন অলিভার জিরুড। আর্সেনালের দুই সাবেক স্ট্রাইকার এখন দারুণ এ রেকর্ডের ভাগীদার হলেও অঁরিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জিরুডের সামনে।

 

গ্রীষ্মজুড়ে দিদিয়ের দেশমের দল উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শুরুটাও হতাশার ছিল। ক্রেইগ গুডউইনের গোলে ৯ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল সকারুজরা। কিন্তু জিরুডের ৫০ ও ৫১তম আন্তর্জাতিক গোলের সঙ্গে আদ্রিয়ের রাবোয়িত ও কিলিয়ান এমবাপের গোল শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

 

ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া ব্যালন ডি’অরজয়ী করিম বেনজেমার অনুপস্থিতিতে এমবাপে ও আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের সঙ্গে আক্রমণভাগ সামলানোর দায়িত্ব পড়ে জিরুডের ওপর। কোচের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিয়েছেন জিরুড।

 

এখন তার সামনে সুযোগ অঁরিকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের হয়ে রেকর্ড ৫২তম গোলের মালিক হওয়ার। ডেনমার্ককে হারাতে পারলে ফ্রান্সের শেষ ১৬ নিশ্চিত হয়ে যাবে। এক ম্যাচ শেষ ডি- গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের ম্যাচে জিতলে এবং অপর ম্যাচে যদি তিউনিশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ড্র করে তবে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যাবে ফ্রান্সের। ফরাসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি ম্যাচ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্স। এর আগে এ কৃতিত্ব দেখিয়েছিল স্বর্ণালী প্রজন্মের স্পেন দলটি ২০১০ সালে।

 

ইউরো ২০২০-এ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন ডেনমার্কের হয়ে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে প্রথম বড় কোনো আসরে খেলতে নেমেছিলেন। মধ্যমাঠে তিনি যথারীতি ড্যানিশদের হয়ে নিজের দায়িত্বটুকু পালন করেছেন।

 

আফ্রিকান দল তিউনিশিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও ডেনমার্কের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কিছু ছিল না। বরং তিউনিশিয়া যোগ্য দল হিসেবে ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ মুহূর্তে অবশ্য ডিফেন্ডার ইয়ানি মেরিয়াহর একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবল ভিএআর প্রযুক্তিও ধরতে না পারায় সৌভাগ্যক্রমে পেনাল্টি থেকে রক্ষা পেয়েছে তিউনিশিয়া।

 

ড্যানিশ কোচ স্বীকার করেছেন গ্রপ-ডি’তে তার দল এখন কঠিন এক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এ মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্ককে এগিয়ে যেতে হলে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইতিবাচক কিছু করে দেখাতে হবে। যদিও তাদের সামনে এখনো গ্রæপের দ্বিতীয় স্থান পাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়।

 

দুই দলের লড়াইয়ের আগে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দলটি কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বকাপে শেষ চারটি ম্যাচ ড্র করেছে ডেনমার্ক। শেষ চারটি ম্যাচে কোনো গোল হজম না করা ডেনমার্ক সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামবে। বিশ্বকাপের আসার আগে নেশন্স লিগের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছির ডেনমার্ক।

 

জুনেও ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল ড্যানিশরা। ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে লেস বøুজদের হারিয়েছিল ২-০ গোলে, ওই সময় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ড্যানিশদের মোকাবিলা করেছিল ফ্রান্স।

 

ভোরের আকাশ/নি

মন্তব্য

Beta version