-->

বইয়ের গন্ধরহস্য

অনলাইন ডেস্ক
বইয়ের গন্ধরহস্য

নতুন বই হাতে পেলে গন্ধ শোঁকেন না—এমন বইপ্রেমী কি আছে? কেউ আবার পুরনো বইয়ের গন্ধ বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু জানেন, এটি আসলে মৃত্যুর গন্ধ?

 

শুনুন, বই যত পুরনো হয় তত সুন্দর গন্ধ বেরোয়। কাগজে রাসায়নিক সেলুলোজ ও লিগনিন জাতীয় উপাদান থাকে বইয়ে। লিগনিন হলো সুগন্ধি অ্যালকোহলের পলিমার। এটি পুরনো বইয়ের পাতা হলুদ করে দেয়।

 

এছাড়া থাকে ইথাইল হেক্সানোল, বেনজালডিহাইড, টলুইন, ভ্যানিলিন ও ইথাইল বেনজিন-সহ আরও কিছু রাসায়নিক। সেলুলোজ ও লিগনিনের মিশ্রণের ফলে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়, তা-ই ওই গন্ধ তৈরিতে দায়ী। সঙ্গে মেশে বাঁধাইয়ের আঠা ও কালির গন্ধ।

 

ইথাইল বেনজিনও মিষ্টি গন্ধ তৈরি করে, ইথাইল-হেক্সানল পুরনো হলে ফুলের মতো গন্ধ বেরোয়, ফারফুরাল থেকে বাদামের গন্ধ বেরোয়। সব মিলিয়ে নেশা ধরানো গন্ধটি তৈরি হয়।

 

আর এই গন্ধ হয়ে ওঠে—মৃত্যুর গন্ধ। কেন?

 

না না, এর সঙ্গে পাঠকের মৃত্যুর সম্পর্ক নেই—এই গন্ধ বইয়ের ‘মৃত্যুর গন্ধ’। সময়ের সাথে সাথে গন্ধ যত মিষ্টি হয়, বইয়ের আয়ুও তত ফুরিয়ে আসে। অর্থাৎ, বইটি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

 

কেতাবি ভাষায় বইয়ের গন্ধ শোঁকার নেশাকে কী বলে জানেন? বিবিলিয়োসমিয়া (Bibliosmia)। যদিও অক্সফোর্ড অভিধানে আপনি শব্দটি খুঁজে পাবেন না। নিতান্ত বইপ্রেমীদের গড়া এই শব্দ।

 

কিন্তু আপনি যদি ইতিমধ্যে এই নতুন কিংবা পুরোনো কোনো বইয়ের পর্যাপ্ত গন্ধ না পেয়ে থাকেন, তাহলে জেনে নিশ্চয়ই অবাক হবেন, এই গন্ধগুলো বাজারে কিনতেও পাওয়া যায়।

 

ভোরের আকাশ/ সু

মন্তব্য

Beta version