-->

কমেনি টেলিভিশনের কদর

নিজস্ব প্রতিবেদক
কমেনি টেলিভিশনের কদর

হাতে হাতে মোবাইলের যুগেও কমেনি টেলিভিশনের কদর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে টিভি দেখার দিন অতীত হলেও এখনো টিভিই বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। সাদাকালো যুগের সেই ফিলিপস, ন্যাশনাল টেলিভিশনের পরে এলো আরো কত নামের টিভি। রয়েল নামের রঙিন টিভি তখন বেশ অবস্থা-সম্পন্ন মানুষের ঘরে দেখা যেত। এখন আর সেই যুগ নেই। এখন সময় আধুনিকতার। কে কত আধুনিক প্রযুক্তির টেলিভিশন রাখতে পারে, দেখতে পারে তার একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা যেন দেখা যায় বাজারে গেলে।

 

কত ব্র্যান্ডের ও মডেলের টিভি যে এখন বাজারে! সনি টেলিভিশন এখনো তার আভিজাত্য বজায় রেখেছে। স্যামসাং চোখ ধাঁধানো পর্দার টেলিভিশন হাজির করছে চোখের সামনে। এলজি, সিঙ্গার, তোশিবা, প্যানাসনিক, হাইসেন্স, টিসিএল, শাওমি, কংকা ইত্যাদি ব্র্যান্ডের টিভি আছে প্রযুক্তির দৌড়ে। পিছিয়ে নেই ওয়ালটন, মিনিস্টার, মার্সেল, মাই ওয়ান ইত্যাদি ব্র্যান্ডের টিভিও।

 

ঘরের কোণের টেবিল বা ওয়্যারড্রোবের ওপরে রাখা সাদাকালো টিভি এখন আর তেমন চোখেই পড়ে না। সে জায়গায় দেখা যায়, দেয়ালের সঙ্গে আটকে রাখা রঙিন টেলিভিশন। যদিও টেলিভিশনে রঙ লেগেছে অনেক আগেই। বসার ঘরের শোভা বাড়িয়ে টেলিভিশন অনেক আগেই শোবার ঘরেও জায়গা করে নিয়েছে। টেবিল বা ওয়্যারড্রোবের উপরে সেই বাক্স আকারের টেলিভিশন পাতলা আর সরু হতে হতে এমন অবস্থায় পৌঁছে যে, তা দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেও দেখা যাচ্ছে। বিনোদনের এখনো প্রধান মাধ্যম এই টেলিভিশন। শহরে কি গ্রামে, সব জায়গায় তার কদর সমান।

 

সিআরটি (ক্যাথড রে টিউব) মডেলের বাক্স আকারের টিভির পরে আস্তে আস্তে এলো সেমি ফ্ল্যাট, ফ্ল্যাট টিভি। টিভি পর্দায় ব্যবহার হতে শুরু করল এলসিডি, এলইডি, কিউএলইডি প্রযুক্তি। থ্রি-ডি টিভিও এক সময় দর্শকের মনে দোলা দিয়ে গেছে। আল্ট্রা এইচডি প্রযুক্তিও যেন টিভি দর্শকের মন ভরাতে পারছে না। ফোর-কে, এইট-কে পর্দার টিভির কথা এখন হরহামেশা শোনা যাচ্ছে। ডাউন পেমেন্ট না দিয়ে কিস্তিতেও টিভি কেনা যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের সুদ না দিয়ে ইএমআই অপশন ব্যবহার করেও কেনা যাচ্ছে টেলিভিশন। জানা গেছে, দেশে দৈনিক ৫০ টাকা কিস্তি দিয়েও টেলিভিশন কেনা সম্ভব।

 

জানতে চাইলে মিনিস্টার-মাই ওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ বলেন, মিনিস্টার ব্র্যান্ডের টিভি দেশের টিভি বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। মিনিস্টার ব্র্যান্ডের টিভির দাম তুলনামূলক কম এবং দামের তুলনায় এর গুণগত মান অনেক বেশি হওয়ায় এটি ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ‘দামে কম মানে ভালো পণ্য’র এই নীতির কারণে ক্রেতাদের কাছে মিনিস্টার টিভি এখন খুব পছন্দের। দেশের টিভি বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ দখল করে আছে মিনিস্টার ব্র্যান্ডের টিভি। তিনি আরো জানান, মিনিস্টার প্রতি দিন ৫০ টাকার কিস্তিতে টিভি বিক্রি করছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখন বছরে ১৮ লাখের বেশি টেলিভিশন সেট বিক্রি হয়। এই টেলিভিশনের বাজারের আকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো। এই বিশাল বাজারে দেশি-বিদেশি দুই ধরনের টেলিভিশনই আছে। তবে দেশে তৈরি টিভির আধিপত্যই বেশি। এক সময় যে টেলিভিশন আমদানি করা হতো, সেই টেলিভিশন এখন দেশেই তৈরি হয়। এমনকি রপ্তানিও হয়। জানা গেছে, ওয়ালটন টেলিভিশন বিশ্বের ৩০টিরও অধিক দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রিমোট টিপেই শুধু টিভি দেখার দিন এখন আর নেই। মুখে বলেই টিভি চালানো ও বন্ধ করাসহ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। রিমোট খুঁজে পাচ্ছেন না, হাতের মোবাইল ফোনটিকে রিমোট বানিয়ে ফেলতে পারবেন। বেসিক টিভির পাশাপাশি স্মার্ট টিভিরও এখন বিশাল চাহিদা। স্মার্ট টিভির সঙ্গে নানা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড টিভি। গুগল টিভিও আছে। অনেক ধরনের অ্যাপ টিভিতে বিল্ট-ইন থাকছে। যেসব ওটিটি (ওভার দ্য টপ) দেখার প্রয়োজন, তা নামিয়ে (ইন্সটল) দেখা যাচ্ছে। ডিশ টিভির সংযোগ এখন বাসাবাড়িতে থাকলেও সমস্যা নেই। স্মার্ট টিভি থাকলে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েই টিভি দেখা যাচ্ছে।

 

স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, গুণগতমানের পণ্যের জন্য জেনুইন-ফাইভ (জি-৫) পলিসি গ্রহণ করেছি আমরা। আমরা জেনুইন প্রাইসে গ্রাহকদের জেনুইন প্রোডাক্ট ও জেনুইন সার্ভিস দিয়ে থাকি। একইসঙ্গে আফটার সেলস সার্ভিসের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে জেনুইন প্যাশনের সঙ্গে জেনুইন কেয়ার নিশ্চিত করে থাকি। হাজারও নকল ও রিফারবিশড পণ্যের ভিড়ে একমাত্র আমরাই সরবরাহ করছি সনির জেনুইন পণ্য।

 

দেশের টেলিভিশন বাজারের ৩০ শতাংশ ওয়ালটন টিভির দখলে বলে জানিয়েছেন ওয়ালটন টেলিভিশনের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মোস্তফা নাহিদ হোসেন। ওয়ালটন টিভির এই সফলতা গ্রাহক আস্থার কারণে বলে জানান তিনি। গ্রাহক আস্থার কারণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নতুন নতুন টেলিভিশন নিয়ে আসছে ওয়ালটন। মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, গত তিন মাসে ওয়ালটন টেলিভিশনের বাজারে প্রবৃদ্ধি ১০-১৫ শতাংশ। আগস্ট মাসে তা ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।

 

ওয়ালটন টিভির মোট বিক্রির ৭০ ভাগ স্মার্ট টিভি, বাকি ৩০ ভাগ বেসিক টিভি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ওয়ালটন টিভি রপ্তানি শুরু হয়েছে। বিশ্বের ৩০টি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হয়।

 

ভোরের আকাশ/নি 

মন্তব্য

Beta version