logo
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:৩৯
সাগরে বিপুল সম্ভাবনা, প্রস্তুতিপর্বেই উত্তোলন কার্যক্রম
জাফর আহমদ

সাগরে বিপুল সম্ভাবনা, প্রস্তুতিপর্বেই উত্তোলন কার্যক্রম

অসীম নীল সাগর এখন সম্পদের আধার। প্রাকৃতিক বিপুল সম্পদ এখন বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের সীমানায়। বিশাল জলরাশিতে এতদিন শুধু মাছ ধরা আর সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের জন্য ব্যবহার হলেও এখন সেখানে বিপুল সম্পদের হাতছানি। সমুদ্রসীমা নির্ধারণ হওয়ার পর বিশাল জলরাশি এখন সম্পদের আধার। এই খনিজসম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রম এখনও প্রস্তুতিপর্বে। নানা জটিলতায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, ২০১২ সালের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর পরই সাগরের খনিজসম্পদ উত্তোলনে প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশের ২২টি ব্লকে মোট ৩২ হাজার লাইন কিলোমিটার এলাকায় ১৩ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় খনিজসম্পদ নির্ণয়ে সাইসমিক সার্ভে করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান টিজিএস স্লম্বারজারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। টিজিএস স্লম্বারজার জানায়, খনিজসম্পদ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত সার্ভে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত গবেষণায় উঠে আসে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকৃত জলসীমায় সমুদ্রে ও তলদেশে গ্যাস-হাইড্রেট বা মিথেন গ্যাসের একটি জমাট স্তরের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং এর অবস্থান, প্রকৃতি ও মজুতের ব্যাপারেও একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় উঠে আসে বাংলাদেশের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকায় ০.১১ থেকে ০.৬৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাস হাইড্রেট জমার অনুমান পাওয়া গেছে, যা ১৭-১০৩ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুতের সমান। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস হাইড্রেটের উপস্থিতি ও মজুতের সমূহ সম্ভাবনা আগামী শতকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সামগ্রিক চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সরকার আশা করছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের বাংলাদেশের সীমানায় ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম রয়েছে। এটা এক ধরনের বালি। যাতে মিশে আছে ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল, ম্যাগনেটাইট। অগভীরে জমে ‘ক্লে’। যা দিয়ে তৈরি হয় সিমেন্ট। গ্যাসের উপস্থিতির কারণে সেখানে তেলেরও অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দরকার শুধু অনুসন্ধান ও উত্তোলন। কিন্তু ২০১২ সালের সাগর সীমানা নির্ধারণ করার পর বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কাজের কাজ হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে নাম না প্রকাশের শর্তে পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ‘করোনার কারণে কাজটি পিছিয়েছে। অফশোর মডেল পিএসসি-২০১৯ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও যুগপোযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে ২০১৯ আধুনিকায়ন করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জেভি-কে মাল্টি-ক্লায়েন্ট সার্ভে শুরু করার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। টিজিএস স্লম্বারজারের জেভি চলতি বছরের ৪ মার্চ পত্র মারফত জানিয়েছে যে, তারা প্রি-ফান্ডিং সংগ্রহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে তারা সার্ভে শুরু করতে পারবে।’

সাগরে যেমন খনিজসম্পদ রয়েছে, সম্ভাবনা রয়েছে পর্যটন ও মৎস্য সম্পদেরও। কিন্তু এর চেয়ে বেশি যুক্ত হয়েছে দেশের মানুষের আবেগ, যা ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের সাগর সীমানা নিশ্চিত করে।

২০১২ সালে সাগরে বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণের প্রায় এক দশক পর চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে একটি গবেষণা প্রতিবেদন পাওয়া যায়। দুই বছর ধরে যা পরিচালনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গবেষণার পর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু মূল্যবান উদ্ভিদজাত এবং প্রাণিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে এগুলো নিয়ে যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল যৌথভাবে প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ম্যারিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান খুরশিদ আলম। কিন্তু যে খনিজসম্পদ নিয়ে এত উচ্ছ্বাস তা আশানুরূপ এগোতে পারেনি।