-->

এখন পর্যন্ত খুব একটা নেই প্রস্তুতি

ইফ্ফাত শরীফ
এখন পর্যন্ত খুব একটা নেই প্রস্তুতি

আগামী ২৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। আর ২৬ তারিখ থেকে জনসাধারণের জন্য সেতু উন্মুক্ত করা হবে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলের সব বাস সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তখন আর লঞ্চে পারাপারের প্রয়োজন হবে না।

বিআরটিএর নির্দেশ অনুযায়ী সায়েদাবাদ থেকে বাসগুলো পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাতায়াত করবে। কিন্তু নির্দেশনা দিলেও সায়েদাবাদ বাসটার্মিনালে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব বাস চলার কথা তার এখন পর্যন্ত খুব একটা প্রস্তুতি নেই। এমনকি যেসব টার্মিনাল ভেঙে নতুন করার কথা, তার কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।

সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, মোট চারটি বাস কাউন্টার শেডের পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। কাউন্টারগুলো হচ্ছে- সিলেট বাস কাউন্টার, চট্টগ্রাম বাস কাউন্টার শেড, খুলনা এবং বরিশালের পার্শ¦বর্তী একটি কাউন্টার। এ কাউন্টারগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শেডের নির্মাণকাজ অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি শেডগুলো ভাঙার কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ চালু হয়নি।

নির্মাণকাজ করছে এমন কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, ঈদের আগেই তারা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। তবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর ২৬ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা।

এদিকে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, করোনার পর থেকে সায়েদাবাদ হতে কোনো বাস ফেরি পার হয়ে সরাসরি দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পারেনি। প্রতিটি কোম্পানি শর্ট সার্ভিস চালু করে। অর্থাৎ যাত্রীকে সায়েদাবাদ থেকে বাসে করে মাওয়া, পরে লঞ্চে পার হয়ে অপর প্রান্ত থেকে আবার বাসে করে যাতায়াত করতে হতো। এই ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় এ সময় সায়েদাবাদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কমপক্ষে ১০টি বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতি।

সায়েদাবাদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বন্ধ হওয়া এ বাস সার্ভিসগুলো হলো- সেবা গ্রিনলাইন, আবদুল্লাহ পরিবহণ, সৌদিয়া, রিপন মল্লিক পরিবহণ, সার্বিক পরিবহণ লি., কনক পরিবহণ লি., ব্যাপারী পরিবহণ, কুয়াকাটা এক্সপ্রেস, রুমিনা পরিবহণ লি. ও হিমি এন্টারপ্রাইজ।

তবে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে বাস সার্ভিসের জন্য গাবতলী থেকে পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নতুন বাস সার্ভিস সায়েদাবাদ আসার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে বাস সার্ভিসগুলোর জায়গা দেবার জন্য কাউন্টারগুলো এখনো প্রস্তুত হয়নি।

কতগুলো নতুন কাউন্টার গাবতলী থেকে সায়দাবাদে আসতে পারেÑ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহত্তর দক্ষিণ কোচ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয় ভোরের আকাশের।

তিনি বলেন, গাবতলী থেকে যেসব বাস সার্ভিস আমাদের সায়েদাবাদে আসার কথা সেগুলো এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়নি। তবে পদ্মা সেতুর কারণে এখন অনেক বাস সার্ভিসই সায়েদাবাদে আসতে চাচ্ছে। এসব কাউন্টার কাদের বরাদ্দ দেবে তা সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করে দেবে। তবে পুরোনো কাউন্টারগুলোই যেখানে বসার ভালো জায়গা পাচ্ছে না, সেখানে নতুন কাউন্টার কীভাবে আসবে?

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে সায়েদাবাদে বাসের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। তবে এ রুটের ভাড়া বেড়ে গেলেও বাসগুলো ভালো যাত্রীসেবা দিতে পারবে বলে মনে করছি। যদিও সায়েদাবাদ থেকে একটি বাস ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত যেতেই ৩ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হয়। তার ওপর বিআরটিএ ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে হিসাবে কতগুলো পরিবহণ টিকবে আর কতগুলো বন্ধ হয়ে যাবে তা আসলে চালু হলে বোঝা যাবে।

মন্তব্য

Beta version